কোলকাতায় জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়িতে ঢোকার পর থেকেই আমি হন্যে হয়ে কাদম্বরীর ছায়া খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম।
| দ্বারকানাথ লেনের মাথায়, ঠাকুর বাড়ির গলি যেখানে শুরু হয় |
এই নারীকে যে আমার খুব একটা ভালো লাগে তা নয়। তবে ভালো মন্দ লাগার উর্ধ্বে, সে আমার একটা নিখাঁদ কৌতুহলের জায়গা। আমি জানিনা কেনো ঠাকুরবাড়ির সবকিছু ছাপিয়ে এই বিতর্কিত রমণীকে নিয়েই আমার প্রবল আগ্রহ।
তাই আজ যখন অবশেষে জোড়াসাঁকো স্বচক্ষে দেখার সৌভাগ্য হলো, অন্দরমহলে প্রবেশের পর থেকে আমি সাহিত্য, শিল্প, সংরক্ষিত দস্তাবেজ সবকিছুতে খুঁটিয়ে কেবল কাদম্বরীকে খুঁজছিলাম।
হতাশ হয়ে দেখলাম পরিবার পরিজনের বিশাল ব্যপ্তিময় এই সম্ভারে..."কাদম্বরী এসেছে শুধু জ্যোতি ঠাকুরের সাথে যখন তার বৌ হিসাবে না এলেই না, তখন!"
শ'খানেক দলিল দস্তাবেজ আর নানাবিধ উপস্থাপনার মাঝে কাদম্বরীকে খুঁজে পেয়েছি মাত্র দু'জাগায়। এক তাদের পারিবারিক ব্যপ্তির গাছে, জ্যোতি'র বৌ হিসাবে ছোট ছোট করে, আর দুই এক পারিবারিক ছবিতে সেও জ্যোতি'র শোভা বাড়াতেই বুঝি!
অথচ মৃণালিনী দেবীর রান্না ঘরের চুলা পর্যন্ত সংরক্ষিত। এমনকি যশোরে কোন এক কণ্যা দেখতে গিয়েছিলো রবি তার বড়সড় ছবি, তার বাপের বাড়ির ছবিসহ বড়বড় হরফে তার তারিফ আর পরিচয় লেখা!
| প্রধান ফটকের পরেই রবি ঠাকুরের ভাস্কর্য |
অনেকেতো বলে রবি'র স্থপতি কাদম্বরী! অন্তত যদি ধরেও নেয়া হয় সব রটনা কিন্তু এতো অনস্বীকার্য রটনার পিছনে ঘটনাতো কিছু থাকেই!
মৃণালিনী দেবীর রান্না ঘর থেকে ঠাকুর বাড়ির আঁতুরঘর সবই যখন নিদর্শনে রাখা হয়েছে তখন নিশ্চয় কাদম্বরীর ঘর অন্তত পাওয়া যাবে।
এই ভাবনা থেকে ফিকশনে বানানো সিনেমা থেকে আন্দাজ করার চেষ্টা করলাম কাদম্বরী বাড়ির কোন ঘরটি থেকে বেরুতো, কাদম্বরীর ঘর কোনটি বিশাল বাড়ির ভেতরে। না পেয়ে ওখানে গার্ডকে জিজ্ঞেস করলাম। বুঝলাম, কাদম্বরী কে সে তাই চেনেনা!
![]() |
| ঠাকুর বাড়ির আঙিনা |
বড্ড কষ্ট পেয়েছি ঠাকুর বাড়ির লোকের কাদম্বরীর প্রতি এই নিদারুণ অবহেলায়!
