ঠাকুরনগরে আমার দিনগুলো কেটেছে একদম গ্রীষ্মের ঝিম মারা মধ্য দুপুরের মতই।
এসছিলাম বিদেশ ভ্রমণে। কিসের ঘোরাঘুরি আর কিসের ফটোগ্রাফি। বেড়ালের মতো উম পেয়ে বাড়িতে বসেই কেটেছে বেলা।
সকাল বেলা উঠার তাড়া নেই। বেলা করে উঠো কিন্তু কারো চেঁচামেচি নেই।
বান্টিদা গ্রামের বাড়িতেও একখানা জবরদস্ত এসি লাগানোয় ঠাঠানো গরমেও বেলা ১১ট/১২টা অব্দি চুটিয়ে ঘুমোনো যায়।
তারপর আসে দাদার বানানো চোস্ত ব্রেকফাস্ট। খেয়ে ঢেকুর তুলতেই কড়া একটা চা। বিড়ি ফুঁকতে ফুঁকতে ঘরের দাওয়ায় বসে হাওয়া খেতে খেতে কোকিলের কু-উ ডাকের সাথে পাল্লা দিয়ে ডাকতে থাকা আমি আর পিচ্চি ফেরু!
আমি শুধু শুধুই এংজাইটিতে ভুগছিলাম যে আমি যেমন অপ্রতিভ জবুথবু মানুষ, অচেনা দেশ, অচেনা মানুষ কিভাবে চলবো, মিশবো! কিন্তু দেখা গেলো বৌদি ভাই খুবই স্বতস্ফুর্ত লোক। আমার সাথে মিলে যায় ষোলোআনা।
ঠাকুরনগর একেবারেই শান্ত নিরবিলি একটা গ্রাম। মূলত আবার গ্রাম বলে আধুনিকতা থেকে পিছিয়ে নেই কিছুতে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা হোক বা চলা ফেরা খাওয়াদাওয়ায়। গ্রামের যে পাশটায় বান্টিদারা থাকে, ওটা মূলত ক্যাথলিক কমিউনিটির অংশ। এমনকি মাঝ রাত্তিরে পিৎজ্জা খেতে চাইলেও তার অসুবিধে নেই।
রায় বাড়িতে আমাদের সকালই শুরু হয় ১০/১১টায়!
হেলেদুলে হালকা নাশতা করে আমরা দাওয়ার দু'পশে বসে খুনসুটি করি। দুপুর হলে সিনেমা দেখতে বসি। এর মাঝেই বিকেল সন্ধ্যা গড়িয়ে যায়। খিদে পেলে খাই না পেলে ওভাবেই ল্যাটায়ে দিন গড়ায় আমাদের সাথে। জীবনানন্দের কবিতাটার মত আমাদের কারোরই কোথাও যাবার তাড়া নেই!
আমাদের খাবার খাওয়ার মন হবার সময়জ্ঞান অদ্ভুত। রাত ১২টায় মনে হয় পিৎজা খাবো। অথবা সকাল বেলা কাচ্চি কিংবা দুপুর বেলা চিকেন মম! মানে এমন অস্বাভাবিক সময়ের সাথে দ্বিগুণ উদ্ভট খাবারের রুচি!
আর আছে আমাদের এক অপুদা।
আমাদের এই উদ্ভট সময়জ্ঞানের সাথে ততোধিক উদ্ভব খাবারের অর্ডার নিতে তার বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই!
আজ কদিন হলো ইন্ডিয়া এসেছি। আমি একা এই বিদেশ বিঁভুয়ে জীবনে প্রথম বার তাও আবার একা যে এমন চ্যালচ্যালিয়ে চলে এলাম, এমনকি আমার কাছে যে একটা রুপিও ছিলনা অথচ তাতে আমার বিন্দুমাত্র দুশ্চিন্তার অবকাশ নেই!

ঠাকুর নগরের আগের স্টেশনেই আছে বিভূতিভূষণের বাড়ি! স্টেশনের নামও হয়েছে তার নামে।
সে গল্প হবেখন আরেকদিন। আপাতত হাওয়া খেতে খেতে আর তরল পানীয় গলধঃকরণ করতে করতে একটা ঠান্ডা হাওয়ার মাঝে হেঁটে আসি!