Skip to main content

Posts

Showing posts from May, 2023

6 Ballygunge Palace

৬ বালিগঞ্জ প্যালেসের কথা বলেছিলেন এক সজ্জন, যে কলকাতা গেলে ওখানে ঘুরে আসবার জন্য। চমৎকার নাকি রেস্তোরাঁ। যেমন মানে, তেমন খাদ্য গুনে, আর সাথে নাকি পাওয়ায় যাবে হালকা ঐতিহ্যের ঘ্রান। ব্যাস, আকর্ষণ বসে গেলো। সেবার পয়সা-কড়ি ফুরিয়ে যাওয়ায় আর যেতে পারিনি। মাসখানেক পরে যখন আবার যাবার ভাগ্য হলো, তখন তার জন্য আলাদা করে পয়সা রেখে দিলাম। কিন্তু ওখানে যাবার পর, প্ল্যান পরিবর্তন করে একার জায়গায় জুটে গেলো আরো ৩ জন। পিয়ালী-দি, সনাতন-দা, আর ফাহিমই বা বাদ যায় কেন। এবং তাদের খরচটাও আমারই হবে। পকেটের কথা ভেবে চিন্তায় পড়লাম পোষাতে পারবো কিনা। পরে ফাহিমকে বললাম, "সখ অনেক, সাধ্যতেতো টান আছে। ওখানের খাবার-দাবারের দামদর জানিনে, টান পড়লে ধার দিও, দেশে যেয়ে ফেরত দিবোখন।" হঠাৎ করে সংখ্যা বাড়ার কারণ হলো, এবার কলকাতা এসে উঠেছি ইনাদের বাসায়। জাদবপুরে, সনাতন-দা আর পিয়ালী-দি'দের বাড়িতে। গত পাঁচ-ছ দিন ধরে এঁদের বাড়িতে এসে ঘাঁটি গেড়েছি। থাকছি, খাচ্ছি, আর ঘুরে ঘুরে কলকাতা দেখছি। শুনে মনে হতে পারে, কোনো জ্ঞাতি খুড়ো, বা পিসি অথচ তা মোটেই নয়। গত পাঁচ দিন আগেও, ইনাদের অস্তিত্ব সম্পর্কেই আমি অজ্ঞাত ছিলাম। চাকরি ...

বালেশ্বরের বাঁকে, পায়রার ঝাঁপিতে

  এখানেই থিতিয়ে এলো মন-প্রাণ ঢাকায় থেকে চিরকাল এখন সরকারি চাকরির ঘানি টানতে বেচারার পোস্টিং হয়েছে এই সুদূর বরগুনায়। মেয়েটা সারাজীবন দুধে-ভাতে থেকে, প্রচন্ড মেধাবী আর উচ্চ উচ্চ সব ডিগ্রী নিয়েও, এখন পেতে বসেছে সংসার এই অজপাড়াগাঁয়ে, তাও আবার একেবারেই একা। মায়ের চেয়ে মাসি'র দরদ ক্ষেত্র বিশেষে খানিকটা লাই দেয়াই যায়। তাই আমার মনে হলো যায়, মেয়েটাকে দেখে আসি কেমন আছে সেখানে, কি করছে, কি খাচ্ছে, সত্যই বড় দুশ্চিন্তা হচ্ছিলো। সরকারি কোয়ার্টারের একখানি ছোট্ট ঘরে ঘাঁটি গেড়েছে সে। মোটামুটি ঢাকা থেকে সব নিয়ে-থুয়ে গুছিয়ে বসেছে। কিন্তু ও কি! রাজকন্যা রীতিমত রাখাল ছেলের সংসার করছে বললে অত্যুক্তি হবেনা। তবুও একবারও বলতে শুনলাম না " ভালো নেই। " দেখে খুব গর্ব হলো। কিন্তু কি আর করা। তার মামা-চাচা অনেক থাকলেও সে দুর্র্নীতি হবেনা ধরে নিয়ে সেসব কাজে লাগায়নি। অথচ কাজে লাগালে অন্তত রাজধানীতে না হলেও নিদেনপক্ষে যুৎসই কোথাওতো হতো। যাক সে কথা। বরিশাল থেকে রওনা দিয়ে রাট দশটা নাগাদ পৌঁছে গেলাম বরগুনা। উঠলাম তার বাসায়। বেশ বন্দোবস্ত করে পরের দিন একখানা ছুটির উপায় করতে পারলো সে. রাত্রে বেলা খেয়ে দিয়ে খানি...

কালিয়োকা চামান তাব বানতা হ্যায়...

  মাসের দশ তারিখে হিসাবের খাতায় চোখ পড়তেই আত্মারামকে কোনোমতে খাঁচায় চেপে ধরলেও প্রবল দীর্ঘশ্বাসকে ঠেকানো যায়নি। ভাবছি কিসের আশায় অতটা বিসর্জনের সুখ আমার! এই যে ঠাঁট নিয়ে এই নগরীতে এসে ঢিট্ হয়ে থাকবার যে ভয়ানক ষড়যন্ত্র, এর রচয়িতা এই আমি অনাসৃষ্টি বৈ আর কেউ নয়। এহেন কোনো প্রাণ নেই যে ধিক্কার করেনি। লাখ টাকার চাকরি ছেড়ে নির্দয়, বাৎসল্যহীন এই কর্পোরেট জীবনে ঢুকে যাবার এই অমূলক সিদ্ধান্তকে। করবে নাই বা কেনো! শতভাগ যৌক্তিক বটে! কিন্তু সবটাতো সবাই জানেনা, জানানোও যায়না। আবার এটাও অনায্য দাবী হবেনা যদি ব্যক্ত করি যে, সে আক্ষেপ আমারই বা কোনো অংশে কম হয়েছে! শেষে যে চাকরিটা ছিল, সেই মাইনেতে "নগরীর বুকে একখানা চকচকে ঘর কিনতে পারতাম " বললে দুঃসাহসিকতার পরিচায়ক হবেনা, হিসাবেও এতটুকু বাহুল্য হবেনা। তবুও, কি এক তীব্র অদম্য, অবরুদ্ধ আত্মাভিমানে সে লক্ষীর মুখে সটান কপাট মেরে দিয়ে চলে এলাম ছেড়ে। নতুন কোনো আয়-রোজগারের উপায়ান্তর না করেই, উপনয়ন হতে না হতেই পাতে ছাই দিয়ে গোসসা করে বেরিয়ে গেলাম সে ঘর আর করবোনা বলে। কিন্তু আত্মাভিমানে বেচে কি আর পেট চলে? চলেনি। তা কি আমি জানতাম না? আলবাত জানতাম! মাথ...