Skip to main content

Posts

অভয়নগর ভয়: টেরাকোটার খোঁজে

টেরাকোটা, মন্দির, যুগের-কালের সাক্ষী রেখে সুউচ্চ দাঁড়িয়ে থাকা ইমারত দর্শন আমার ভীষণ আগ্রহের। মনে পড়ে, দিনাজপুরের দিকে যেবার গেলাম, কান্তজীর মন্দির দেখার জন্য কত কাহিনী। একদিন গেলাম বন্ধ, পরেরদিন গেলাম বন্ধের ঠিক আগে দিয়ে তাই ঢুকতে দিলনা, তারপর অবশেষে তৃতীয় ধাক্কায় সঠিক সময়ের ব্যাপার বুঝে যেতে পড়েছিলাম তাও একদম সন্ধ্যার ঠিক আগে মুহূর্তে। ভালোভাবে দেখা হয়নি। ১১-শিব-মন্দির দেখতে যেয়েও আমাদের সেরকমই ঝক্কি হলো। এমন না যে এটায় কান্তজী'র মন্দিরের মতো সাঁঝের বেলায় মন্দিরের দরজা বন্ধ করে দেবার ব্যাপার ছিল, তবে ঘোর গহীনে, প্রায় বনের মাঝে অন্ধকারে দেখবার কোনো সুযোগই থাকতোনা। আমার ইচ্ছে ছিল, বিকেল বিকেল পৌঁছে, মন্দিরের মঠে বিকেল আর সন্ধ্যা ঘনানো দেখবো। কিন্তু সেদিন আমাদের ঘোরার শেষ দিন, অথচ বাকি ছিল কত কিছু, সে জন্য দিনের পরিকল্পনাটা একটু ঘটনাবহুল ছিল। খুলনা থেকে বাগেরহাট একদিকে, আর অভয়নগর একদম সোজা উল্টো দিকে, যশোরের রাস্তায়। চুই-ঝালের গরুর গোস্ত দিয়ে পেট টান করবার পর মনে হলো একটা ভাত ঘুম দেই কিন্তু সে সুযোগ নেই। সবাইকে ঠেলেঠুলে নিয়ে আবার বসে চেপে বসলাম অভয়নগরের উদ্দেশ্যে। ওখানে নেমে মন্দিরের...
Recent posts

যাশোরের সাগরদাঁড়ি, কপোতাক্ষ, আর মধুসূদন দত্ত এক বেলা

ফারদিন আপুর সাথে দেখা হলেই ট্যারা চোখে বলে "ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার সময় তোমার আর হলোনা!" ২২'সাল যেয়ে ২৩ এলো। আমার সুযোগ হলোনা। শেষতক বলেছিলাম "ঈদের পরে হবে। কোন ঈদ সেটা জিজ্ঞেস করবেন না!" আপু আরেকটা তীব্র ভষ্ম করে দেওয়া ট্যারা দৃষ্টি দিয়ে সেদিনের মত জেরা থেকে মুলতুবি নেয়। কিন্তু সে আমার সহকর্মী কদিনই বা লুকিয়ে লুকিয়ে থাকা যায়! এদিকে আমারও সাপ্তাহিক ছুটিতে নানানা ব্যস্ততা আর ঝামেলায় কাটে। উনাকে নিয়ে যাবার উপোযগী জায়গাও তেমন নেই। উত্তর, পুর্ব ও পশ্চিম এবং দক্ষিণ বঙ্গে মোটামুটি আর তেমন কিছু বাকি নাই। সুতরাং যাওয়া জায়গায় আবার যাবার ইচ্ছে নেই। দক্ষিণ বঙ্গের একটা পাশও (বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা) ঘুরে এসেছি বেশ আগে। সুন্দরবনের এই পাশটায় বাকি থাকলো কেবল। কিন্তু সেদিকে যাওয়ার জন্য চাই লম্বা ছুটি। এই অসুবিধার কারণে ওদিকটায় যাওয়া হয়ে ওঠেনি আগে। সরকারকে গালি দিলেও পদ্মা সেতুর কল্যাণে আমার ঘোরাঘুরিটা বেশ ভালোই হচ্ছে। সে কথা উঠতেই শৈল বললো, "এই আমার এক বন্ধুর বাড়ি আছে খুলনায়, ওখানে থাকার ব্যবস্থা করতে পারি"। ব্যাস! আর দেরি কিসের। আমার মতো গরিব মুসাফিরের হোটেল খরচ বেঁচে যা...

যাত্রা বিভ্রাট!

সমুদ্র প্রীতি আমার অত নেই। যেটুকু সখ, আহ্লাদ আছে তাও অত্যন্ত পরিমারর্জিত রূপে, সমুদ্রকে একান্ত করে পাবার স্বার্র্থপরতা। দীর্র্ঘকাল চাকুরী সূত্রে কক্সবাজার থাকার দরুণ সে বিশেষ পরিমারর্জিত রূপে সমুদ্রকে একান্ত করে পাবার সে আশাও পূর্র্ণ হয়েছে বহুবার। সেজন্যেই আর কুয়াকাটায় যাবার কোনো আকর্র্ষণ বোধ করিনি। কিন্তু পটুয়াখালী-বরগুনা যখন গেলামই ভাবলাম দেখেই যাই, কিসের অত আড়ম্বর এ জায়গা নিয়ে যে সকলে সুযোগ পাওয়া মাত্রই দলে দলে চলে। তাছাড়া শেষমুহূর্র্তে হয়ত আবার আমার মতিভ্রম হতো যদি ফারু-চান আমার সঙ্গে যাবার বায়না না ধরতো। আমার ইচ্ছে ছিল, আমার তত্ত্বাবধানে যতটুকু সম্ভব ফারু-চানকে একটু ঘুরিয়ে দেখানো চারপাশটা যদিও তার আবাস এখানেই আর আমিই বরং অতিথি। যাত্রার শুরুতেই হলো যাত্রা বিভ্রাট! যদিও টিকিট কেটেছি পটুয়াখালী যাব বলেই, কিন্তু তারা আমাদের ভুল টিকিট দিল। ভুল গাড়িতে উঠে ম্যাপ দেখতে দেখতে যখন অনেকদূর এগিয়ে গেলাম, তখন বুঝতে পারলাম আমরা রীতিম উল্টো দিকে চলছি! তাড়াতাড়ি নেমে পরে সেখান থেকে রাস্তায় আরেকটা বাস ধরে আবার যাত্রা করলাম। গুগল ম্যাপ ছাড়া অমিত জীবন কল্পনাই করতে পারিনা। ঘন্টা দেড়েকের মাঝেই পৌঁছে গেলা...

6 Ballygunge Palace

৬ বালিগঞ্জ প্যালেসের কথা বলেছিলেন এক সজ্জন, যে কলকাতা গেলে ওখানে ঘুরে আসবার জন্য। চমৎকার নাকি রেস্তোরাঁ। যেমন মানে, তেমন খাদ্য গুনে, আর সাথে নাকি পাওয়ায় যাবে হালকা ঐতিহ্যের ঘ্রান। ব্যাস, আকর্ষণ বসে গেলো। সেবার পয়সা-কড়ি ফুরিয়ে যাওয়ায় আর যেতে পারিনি। মাসখানেক পরে যখন আবার যাবার ভাগ্য হলো, তখন তার জন্য আলাদা করে পয়সা রেখে দিলাম। কিন্তু ওখানে যাবার পর, প্ল্যান পরিবর্তন করে একার জায়গায় জুটে গেলো আরো ৩ জন। পিয়ালী-দি, সনাতন-দা, আর ফাহিমই বা বাদ যায় কেন। এবং তাদের খরচটাও আমারই হবে। পকেটের কথা ভেবে চিন্তায় পড়লাম পোষাতে পারবো কিনা। পরে ফাহিমকে বললাম, "সখ অনেক, সাধ্যতেতো টান আছে। ওখানের খাবার-দাবারের দামদর জানিনে, টান পড়লে ধার দিও, দেশে যেয়ে ফেরত দিবোখন।" হঠাৎ করে সংখ্যা বাড়ার কারণ হলো, এবার কলকাতা এসে উঠেছি ইনাদের বাসায়। জাদবপুরে, সনাতন-দা আর পিয়ালী-দি'দের বাড়িতে। গত পাঁচ-ছ দিন ধরে এঁদের বাড়িতে এসে ঘাঁটি গেড়েছি। থাকছি, খাচ্ছি, আর ঘুরে ঘুরে কলকাতা দেখছি। শুনে মনে হতে পারে, কোনো জ্ঞাতি খুড়ো, বা পিসি অথচ তা মোটেই নয়। গত পাঁচ দিন আগেও, ইনাদের অস্তিত্ব সম্পর্কেই আমি অজ্ঞাত ছিলাম। চাকরি ...

বালেশ্বরের বাঁকে, পায়রার ঝাঁপিতে

  এখানেই থিতিয়ে এলো মন-প্রাণ ঢাকায় থেকে চিরকাল এখন সরকারি চাকরির ঘানি টানতে বেচারার পোস্টিং হয়েছে এই সুদূর বরগুনায়। মেয়েটা সারাজীবন দুধে-ভাতে থেকে, প্রচন্ড মেধাবী আর উচ্চ উচ্চ সব ডিগ্রী নিয়েও, এখন পেতে বসেছে সংসার এই অজপাড়াগাঁয়ে, তাও আবার একেবারেই একা। মায়ের চেয়ে মাসি'র দরদ ক্ষেত্র বিশেষে খানিকটা লাই দেয়াই যায়। তাই আমার মনে হলো যায়, মেয়েটাকে দেখে আসি কেমন আছে সেখানে, কি করছে, কি খাচ্ছে, সত্যই বড় দুশ্চিন্তা হচ্ছিলো। সরকারি কোয়ার্টারের একখানি ছোট্ট ঘরে ঘাঁটি গেড়েছে সে। মোটামুটি ঢাকা থেকে সব নিয়ে-থুয়ে গুছিয়ে বসেছে। কিন্তু ও কি! রাজকন্যা রীতিমত রাখাল ছেলের সংসার করছে বললে অত্যুক্তি হবেনা। তবুও একবারও বলতে শুনলাম না " ভালো নেই। " দেখে খুব গর্ব হলো। কিন্তু কি আর করা। তার মামা-চাচা অনেক থাকলেও সে দুর্র্নীতি হবেনা ধরে নিয়ে সেসব কাজে লাগায়নি। অথচ কাজে লাগালে অন্তত রাজধানীতে না হলেও নিদেনপক্ষে যুৎসই কোথাওতো হতো। যাক সে কথা। বরিশাল থেকে রওনা দিয়ে রাট দশটা নাগাদ পৌঁছে গেলাম বরগুনা। উঠলাম তার বাসায়। বেশ বন্দোবস্ত করে পরের দিন একখানা ছুটির উপায় করতে পারলো সে. রাত্রে বেলা খেয়ে দিয়ে খানি...

কালিয়োকা চামান তাব বানতা হ্যায়...

  মাসের দশ তারিখে হিসাবের খাতায় চোখ পড়তেই আত্মারামকে কোনোমতে খাঁচায় চেপে ধরলেও প্রবল দীর্ঘশ্বাসকে ঠেকানো যায়নি। ভাবছি কিসের আশায় অতটা বিসর্জনের সুখ আমার! এই যে ঠাঁট নিয়ে এই নগরীতে এসে ঢিট্ হয়ে থাকবার যে ভয়ানক ষড়যন্ত্র, এর রচয়িতা এই আমি অনাসৃষ্টি বৈ আর কেউ নয়। এহেন কোনো প্রাণ নেই যে ধিক্কার করেনি। লাখ টাকার চাকরি ছেড়ে নির্দয়, বাৎসল্যহীন এই কর্পোরেট জীবনে ঢুকে যাবার এই অমূলক সিদ্ধান্তকে। করবে নাই বা কেনো! শতভাগ যৌক্তিক বটে! কিন্তু সবটাতো সবাই জানেনা, জানানোও যায়না। আবার এটাও অনায্য দাবী হবেনা যদি ব্যক্ত করি যে, সে আক্ষেপ আমারই বা কোনো অংশে কম হয়েছে! শেষে যে চাকরিটা ছিল, সেই মাইনেতে "নগরীর বুকে একখানা চকচকে ঘর কিনতে পারতাম " বললে দুঃসাহসিকতার পরিচায়ক হবেনা, হিসাবেও এতটুকু বাহুল্য হবেনা। তবুও, কি এক তীব্র অদম্য, অবরুদ্ধ আত্মাভিমানে সে লক্ষীর মুখে সটান কপাট মেরে দিয়ে চলে এলাম ছেড়ে। নতুন কোনো আয়-রোজগারের উপায়ান্তর না করেই, উপনয়ন হতে না হতেই পাতে ছাই দিয়ে গোসসা করে বেরিয়ে গেলাম সে ঘর আর করবোনা বলে। কিন্তু আত্মাভিমানে বেচে কি আর পেট চলে? চলেনি। তা কি আমি জানতাম না? আলবাত জানতাম! মাথ...