Skip to main content

Posts

Showing posts from 2021

শ্রীহট্ট দিনলিপিঃ তানিমের গোলাপিনেশা

তানিমকে আমেরিকায় স্কলারশিপের জন্য প্রস্তুতি নিতে দেখতেসি বেশ ক'বছর ধরেই। হুট করেই সেবার যখন সুখবরটা পেলাম যে ওর স্কলারশিপ কনফার্ম, বিশ্বাস হতে চায়নি। ১৫/১৬ তারিখের দিকে শুনি ২২ তারিখে ওর আমেরিকার ফ্লাইট। আমার মাথায় কনগ্রাচুলেশন জানানোর আগে শুরুতেই যেইটা মাথায় কাজ করেছিল তা হলো, "আয়হায়! তানিমের না আমাকে ওর নতুন রেসিপির বিরিয়ানী রান্না করে খাওয়ানোর কথা! একবার আমেরিকা পার হইলেত আর ওকে পাবার সম্ভাবনা প্রায় নাই! সেজন্য ভাবলাম সামনে যে ৩দিন ঈদের ছুটি আছে, তাতে খুব ঝক্কি-ঝামেলার হলেও সিলেট ঢুঁ মেরে আসি। অন্তত বিরিয়ানী খাই না খাই ছেলেটার সাথে একবার দেখা করা উচিৎ। কে জানে আর কখনো দেখা হবে কিনা। তানিমের সাথে কথা হলে জানলাম, কোভিড টেস্টের কারণে সে বাড়ি থেকে বের হতে পারবেনা। বিরিয়ানী রান্নাতো অনেক দূরের কথা। কিন্তু একেতো লকডাউন, অফিসের কাজের প্রচুর চাপ, আমি ৩/৪ দিন না থাকলে যে কেউ ব্যাকাপ দিবে এমন লোক নেই! তারউপর আমার লাইন-ম্যানেজার ছুটিতে তার দেশে যাবে। তার কাজ, দায়িত্ব বুঝে নেয়া সহ আর দৈনন্দিন নিত্যদিনের ঝামেলাতো ছিলোই। সুতরাং কাজের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বেশী। সব মিলিয়ে আমারও ...

দেশান্তরী

  বরাবরই বলে এসেছি সমুদ্র এক বিন্দুও কখনো টানেনি আমাকে।  কোনো সম্মোহন কাজ করেনি সমুদ্রের প্রতি কোনোদিন।  কিন্তু সেই সন্ধ্যায়, প্রথম সমুদ্রের প্রেমে পড়েছিলাম নারকেল জিঞ্জিরার একটা ঘাটে।  ভয়ানক ঢেউ, এক অদ্ভুত সুরের তালে দুলতে থাকা ঘাটে বাঁধা নৌকা, ট্রলার, স্পিডবোট।  হঠাৎ হঠাৎ দুলে দুলে জ্বলে ওটা ছোট ছোট লাইট।  কানে বাজছে "ওরে নীল দরিয়া..." খালি পায়ে ঢেউয়ের প্রবল ধাক্কায় এইসব দৃশ্য দেখা... সমুদ্রের প্রতি এভাবে কখনো সম্মোহিত হইনি আগে।

তিতাসের বুকে ভোর (ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া)

আমার আর মহি'র এই ছবিটা খুব পছন্দের (তিতাস নদীর পাড়ে) আমার "দর্শনীয়" জায়গার প্রতি তেমন আকর্ষণ।  আমার ঘুরার জন্য একটা ভীন্ন শহর, ভীন্ন মানুষ, ভীন্ন রাস্তাঘাট হলেই হয়! ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া ঘোরার সুযোগ আসতেই লুফে নিলাম তাই! আর কিছু না হলে অন্তত  অদ্বৈত মল্লবর্মণের তিতাস নদীর দেখা মিলবে!  হলোও তাই।  রাস্তাঘাটে ঘুরলাম।  গোছানো, নিরবিলি একটা শহর।  বিকেল থেকে সন্ধ্যে অব্দি শহরের এমাথা ওমাথা ঘুরলাম।  সন্ধ্যার রেলস্টেশন (ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া)  তেতুলের ঝাল চা!  রেলস্টেশনে গেলাম চা খেতে, রকমারি স্বাদের চা পাওয়া যায়। শহরের ভেতরে টঙ তেমন নাই, তাই মোটামুটি সবাই রেলস্টেশনেই ভীড় জমায় বোধহয়। কে বলবে এই শহর ইদানীং মারামারির জন্য কুখ্যাতি কুড়িয়েছে! এইটুকুনি শহরে ফ্লাইওভারটা বেশ বেখাপ্পাই লাগে। ফ্লাইওভারের উপরে  ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়াকে আমার মনে হয়েছে মগবাজারের একটা অংশ যেন!  খুব ভোরে উঠে গেলাম তিতাসকে দেখতে।  তিতাসের বুকে সূর্যোদয়  তখন কেবল সূর্যদয় হচ্ছে।  শীতকাল, নদী শুকিয়ে আছে। মেরুড়া শশ্মান ঘাট  মেরুড়া শশ্মান ঘাট থেকে নদী পেরিয়ে ওপারে গেলাম।...

শ্রীহট্ট দিনলিপিঃ Dosa (দোসা'র স্বাদে সাতকরায় গরুর গোস্তো)

আমি অত ভোজনরসিক না (যদিও মানুষ আমাকে পেটুক মনে করে! ) দোসা'র নাম এখানে সেখানে অনেকবার শুনলেও কখনো খাইনাই। সাউথ ইন্ডিয়ার একটা বিখ্যাত খাবার আইটেম। দোসা সেদিন জয়দার সাথে সান্ধ্যকালীন হাঁটাহাঁটিতে উনি চলে গেলেন কাজী এসপারাগাসে। আমি এর আগে জানতাম না যে এই রেস্তোরাঁ এত বিখ্যাত!  Kazi Asparagus  সিলেটের খাদ্য প্রেমীদের তীর্থস্থানের মত। সারাদিন প্রায় আধখাওয়া পেটে ঘুরে, সেদিন ভোলাগঞ্জ থেকে এসে সন্ধ্যার পরেই তাই পেটভরে খাওয়া দাওয়া করেছিলাম। সুতরাং পেটে একটা মিল্কশেক আঁটাতেই কষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। এরপর কি মনে করে কে জানে উনি এই খাবাার অর্ডার করে দিলেন। দুঃখ একটাই এমন একটা খাবার তৃপ্তি নিয়ে আয়েশ করে খেতে পারি নাই। দোসা'র সাথে ছিল ৬টি বিভিন্ন ধরনের খাবার আইটেম। দুধ দিয়ে নারকেলের কি একটা চাটনির মতো দিয়েছিল। অল্প ঝালঝাল, সামান্য টক আর বাকিটা নারকেল-দুধের অনবদ্য স্বাদের মিশ্রণ। চটপটির মত রান্না বুটের ডালের ভুনা ঝোলে কাঁচা মরিচ আর ধনে পাতার টাটকা ঘ্রাণ। সাতকরা দিয়ে রান্না করা গরু মাংস মুরগির গোস্তের ভুনা সাথে এক প্রকার সবজি শুকনা মরিচ ভেজে বানানো আলুভর্তা। দোসা'টাও বেশ ভালোই বানিয়েছে। মচমচে, পা...