Skip to main content

বনে-বাদাড়ে ঈদঃ রোয়াংছড়ি উপাখ্যান













৫টা দিন টানা ছুটি কি আর সহজে পাওয়া যায় অথচ কোনো কাজেই লাগাতে পারছিনা।

কতগুলা কালেভদ্রে'র "কেউকেটা" ভ্রমনেৎসু মানুষের জন্য আমাদের মত "বাঁচতে হলে ভ্রমণ করতে হবে" ধরণের দরিদ্র ভ্রমণপ্রেমীদের হয় যত বিপদ!
এরকম "দাদা! নিয়ে চলেন যত টাকা লাগে দিবো" ঘটনায় অভ্যস্ত হয়ে, বর্তমানে বান্দরবনে গাইডদের দাবী শুনে আঁতকে উঠতে হয়!
যার জন্য বহুদিনের বানানো দুর্দান্ত একটা প্ল্যান কেবল বাদ দিতে হলো গাইড খরচ পোষাতে না পারার জন্য!

সেবার ঈদের আগে এতসব মিলিয়ে মন মেজাজ বেশ খারাপ।
শেষে জেদ চেপে গেল একাই যাবো!
যেদিকে  ইচ্ছে সেদিকে যাব!
যা হয় হবে!
রোয়াংছড়ির দিকে কখনো যাইনি আগে একবারও! কবে থেকে কেবল পাইখ্যং পাড়ার নামই শুনে আসছি!
এবার ওদিকেই যাবো।

যেহেতু একা তায় আবার কোনোদিন যাইনি, পথঘাটও চিনিনা। তাই বেশী ভেতরে না যেয়ে কোনো এক পাড়ায় ২/৩ দিন কাটিয়ে দিবো এই চিন্তাভাবনা।
.
যেহেতু কোথাও কোনো চেনাজানা নাই, সতীশ কে ধরলাম পাড়া থেকে কাউকে ম্যানেজ করে দিতে!
নানান ঝামেলার পর অবশেষে পাইখ্যং পাড়ায় থাকার বন্দোবস্ত হলে, এখানেও বাগড়া!
রোয়াংছড়ি পৌঁছে জানলাম,
আমাদের কাবিল-ভ্রমণেৎসু ট্রাভেলারদের তিনাপ-সাইতারের অই ঘটনার পর নাকি আর্মি এমনকি রোয়াংছড়ির ভেতরে যেতে দিতেও রাজিনা!

মেহেদি ভাইয়ার কল্যাণে অসাধারণ এক মানুষের সাথে পরিচয় হলো।
তিনি বললেন,

"অসুবিধা নাই দিদি! চলে যখন আসছেন এই গরীবের বাসায় ক'দিন থেকে যান!"
এতদিন কেবল ব্যাবসায়ীক-মাইন্ডড কারবারিই দেখলাম, যারা এমনকি হিসাবের বাইরে একটুও আপ্যায়ন করেনা! এমনকি এক গ্লাস গরম পানিও দিবেনা! 
(দীর্ঘদিনের পরিচিতি থাকলে সেটা ভীন্ন কথা)




উনার বাসায় কাটিয়ে দিলাম কদিন!
মেহেদী ভাইয়া আগেই বলে দিয়েছিলো বলে, উনি আবার তার ছেলেকে দিয়ে কই থেকে খুঁজে দেশী মুরগী রেঁধে রাখতে বলে আসছিলেন বাসায়!
প্রতিদিন সকালে বাজারে যেয়ে পরোটা নিয়ে আসতেন!
এটা সেটা....
উনার সাথে এমন একটা সম্পর্ক যে এখানে টাকাও দেয়া যায়না!
মানে এইরকম শর্তহীন আপ্যায়নে অনভ্যস্ত আমি পড়ে যাই মহা অস্বস্তিতে!
দাদা'র, তার ছেলে, মেয়ে
আর ছেলের বৌ এর অনাকাঙ্ক্ষিত এইরকম অভাবনীয় আতিথেয়তায় আমি সিক্ত!
গেছিলাম খাবোদাবো আর এক কোণে পড়ে নাকমুখ গুজে বই পড়ব বলে!

কিসের কি... ঘুমিয়েছি, খেয়েছি আর বাকি সময় ঘুরেছি সাঙ্গপাঙ্গ ওদের নিয়ে!



সবকিছুর উর্ধ্বে যেটা ছিলো, রোয়াংছড়ি থেকে বান্দরবান অব্দি মোটরসাইকেল যাত্রাটা!
এক কথায় বললে "Stairway to heaven" 
.
পরিশেষে,
রোয়াংছড়ি আর পাইখ্যং পাড়ায় একটা ঘর বানায়ে আসছি আবার ফেরার মত

Popular posts from this blog

অভয়নগর ভয়: টেরাকোটার খোঁজে

টেরাকোটা, মন্দির, যুগের-কালের সাক্ষী রেখে সুউচ্চ দাঁড়িয়ে থাকা ইমারত দর্শন আমার ভীষণ আগ্রহের। মনে পড়ে, দিনাজপুরের দিকে যেবার গেলাম, কান্তজীর মন্দির দেখার জন্য কত কাহিনী। একদিন গেলাম বন্ধ, পরেরদিন গেলাম বন্ধের ঠিক আগে দিয়ে তাই ঢুকতে দিলনা, তারপর অবশেষে তৃতীয় ধাক্কায় সঠিক সময়ের ব্যাপার বুঝে যেতে পড়েছিলাম তাও একদম সন্ধ্যার ঠিক আগে মুহূর্তে। ভালোভাবে দেখা হয়নি। ১১-শিব-মন্দির দেখতে যেয়েও আমাদের সেরকমই ঝক্কি হলো। এমন না যে এটায় কান্তজী'র মন্দিরের মতো সাঁঝের বেলায় মন্দিরের দরজা বন্ধ করে দেবার ব্যাপার ছিল, তবে ঘোর গহীনে, প্রায় বনের মাঝে অন্ধকারে দেখবার কোনো সুযোগই থাকতোনা। আমার ইচ্ছে ছিল, বিকেল বিকেল পৌঁছে, মন্দিরের মঠে বিকেল আর সন্ধ্যা ঘনানো দেখবো। কিন্তু সেদিন আমাদের ঘোরার শেষ দিন, অথচ বাকি ছিল কত কিছু, সে জন্য দিনের পরিকল্পনাটা একটু ঘটনাবহুল ছিল। খুলনা থেকে বাগেরহাট একদিকে, আর অভয়নগর একদম সোজা উল্টো দিকে, যশোরের রাস্তায়। চুই-ঝালের গরুর গোস্ত দিয়ে পেট টান করবার পর মনে হলো একটা ভাত ঘুম দেই কিন্তু সে সুযোগ নেই। সবাইকে ঠেলেঠুলে নিয়ে আবার বসে চেপে বসলাম অভয়নগরের উদ্দেশ্যে। ওখানে নেমে মন্দিরের...

লোকাল ট্রেনে এক রাত্রি (কিশোরগঞ্জ হাওড় হয়ে অষ্টগ্রাম দিয়ে ব্রাক্ষ্ণণবাড়িয়া)

নিলয় ভাইয়ার কাছে ঢাকার লোকাল ট্রেনের গল্প শুনে বেশ "এডভেঞ্চারাস" মনে হবার দরুণ চড়ার সখ ছিলো।  যদিও সবাই মানা করতো সবসময় যে, লোকাল-ট্রেন খুবই বাজে আর রাতের বেলাতো রীতিমতো নরক! কোনো মহিলার চড়বার যোগ্য না!  কিন্তু একদিন, পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই সেই নরক দেখার সৌ/দূর্ভাগ্য হয়েছিলো একবার। . রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য ভ্রমণ শেষে  পরদিন আমরা যাবো কিশোরগঞ্জ হা ওড় ঘুরতে। কিশোরগঞ্জ হাওড় হয়ে অষ্টগ্রাম দিয়ে ঘুরে পানি পথে কুমিল্লা দি য়ে বেরিয়ে চিটা গং ব্যাক করবো এরকম প্ল্যান ছিলো আমাদের! কিন্তু শেষ দিকে এসে নানান কারণে একটার পর একটা প্ল্যান ভেস্তে যায়।  আর আমরা টুকুর টুকুর করে ভেঙে ভেঙে আসতে থাকি!  এভাবে আমরা কুমিল্লা অব্দি যেতে না পেরে  ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া পর্যন্ত আসতে পারি।  ওখান থেকে আর কোনো না পেয়ে, আমরা যখন লোকাল ট্রেনে উঠি তখন সম্ভবত প্রায় রাত ৮/৯টা! . অন্তত কোনোমতে কুমিল্লা অব্দি যেতে পারলেও হচ্ছে, ওখান থেকে অহরহ চিটাগাংএর গাড়ি পাওয়া যাবে।    চিন্তা একটাই, ট্রেনে অন্তত একটা সিট পেতেই হবে। পুরাটা রাস্তা শিহাব ভাইএর পক্ষে দাঁড়িয়ে যাওয়া সম্ভব না।  [বি...

শ্রীহট্ট দিনলিপিঃ তানিমের গোলাপিনেশা

তানিমকে আমেরিকায় স্কলারশিপের জন্য প্রস্তুতি নিতে দেখতেসি বেশ ক'বছর ধরেই। হুট করেই সেবার যখন সুখবরটা পেলাম যে ওর স্কলারশিপ কনফার্ম, বিশ্বাস হতে চায়নি। ১৫/১৬ তারিখের দিকে শুনি ২২ তারিখে ওর আমেরিকার ফ্লাইট। আমার মাথায় কনগ্রাচুলেশন জানানোর আগে শুরুতেই যেইটা মাথায় কাজ করেছিল তা হলো, "আয়হায়! তানিমের না আমাকে ওর নতুন রেসিপির বিরিয়ানী রান্না করে খাওয়ানোর কথা! একবার আমেরিকা পার হইলেত আর ওকে পাবার সম্ভাবনা প্রায় নাই! সেজন্য ভাবলাম সামনে যে ৩দিন ঈদের ছুটি আছে, তাতে খুব ঝক্কি-ঝামেলার হলেও সিলেট ঢুঁ মেরে আসি। অন্তত বিরিয়ানী খাই না খাই ছেলেটার সাথে একবার দেখা করা উচিৎ। কে জানে আর কখনো দেখা হবে কিনা। তানিমের সাথে কথা হলে জানলাম, কোভিড টেস্টের কারণে সে বাড়ি থেকে বের হতে পারবেনা। বিরিয়ানী রান্নাতো অনেক দূরের কথা। কিন্তু একেতো লকডাউন, অফিসের কাজের প্রচুর চাপ, আমি ৩/৪ দিন না থাকলে যে কেউ ব্যাকাপ দিবে এমন লোক নেই! তারউপর আমার লাইন-ম্যানেজার ছুটিতে তার দেশে যাবে। তার কাজ, দায়িত্ব বুঝে নেয়া সহ আর দৈনন্দিন নিত্যদিনের ঝামেলাতো ছিলোই। সুতরাং কাজের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বেশী। সব মিলিয়ে আমারও ...