Skip to main content

Narayanganj (নারায়ণগঞ্জ)- City of Old School!

আপনি যদি মারিওপুজো'র গড ফাদারের একনিষ্ঠ ভক্ত হয়ে থাকেন, আপনাকে নারায়ণগঞ্জ দেখতে হবে রয়ে সয়ে।
পুরো নারায়ণগঞ্জেই একটা ওল্ড-স্কুল ঘ্রাণ পাবেন, কেমন যেন ভিটো কর্লিিয়নির মত কোনো চমৎকার গডফাদারের শহর মনে হবে!
মনে হয়েছে ঠিক বিভাগীয় শহর না আবার এর সাথে সব জায়গার যোগাযোগ বন্ধ করে দিন কিন্তু দিব্যি দিনপাত হয়ে যাবে এ শহরের! 
.
 সকালে যেয়ে নারায়ণগঞ্জ নামবেন। 
তবে এবার আর রাস্তার দু'পাশে পর্দায় ঢাকা থাকবেনা কেউওক্রাডং বা মৌদক মুয়াল সমান উঁচু উঁচু ময়লার ডিবি!
যেয়েই তড়িঘড়ি করা যাবেনা। 
প্রথম দিন আলসেমিই করুন।
কেল্লা দেখুন, আদমজী দিয়ে একটা চক্কর কাটুন। একটু শীতলক্ষ্যার ধারে বসুন, দুটো বাদাম খান। চাষড়ায় চা খান। 
আয়েসী বিকালের আলস্যে চা'এর চুমুকের মত। আপনাকে শেষ বিকেলের দিকে কিল্লাপুরে যেয়ে কেল্লা দেখে আসতে হবে।
 কেল্লার পৌরাণিক সিঁড়িতে বসে কিছুক্ষণ চেষ্টা করলে হয়তো দু'চার লাইনের "কোবতে"ও রচনা করে ফেলবেন।
তারপর সন্ধ্যা নাগাদ চলে আসুন খানপুরে।
 চা'এর আড্ডায় বসতে হবে। 
আড্ডায় শামিল করতে হবে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় কোনো নার্ডকে! 
তারপর শুনবেন এক বাস্তব ভিটো কর্লিয়নির বেড়ে ওঠার ড্রামাটিক গল্প এবং ডন কর্লিয়নি রূপে আধিপত্য বিস্তার করবার উপাখ্যান। 
বক্তা যদি হয় আমাদের মিয়া তামজিদের মত, সেক্ষেত্রে চত্ত্বরে বসে চা'এর কাপে চুমুক দিতে দিতে জুলুজুলু চোখে স্বপ্নালু হয়ে আপনি কল্পনাতে দেখতে পাবেন যেন মারিওপুজো'র গডফাদারের এক জ্যান্ত চিত্র!  
সেই গল্পের শেষ পর্যায়ে,
 খানপুর মোড়ে বসে গরম গরম লুচি আর মুরগীর রানের চাপ খেয়ে, ঢোক ঢোক করে একগ্লাস লেবু শরবত খান। 
সবশেষে বিসমিল্লাহ করে বাসস্থলের দিকে হেলেদুলে যাত্রা করবেন রাতের নারায়ণগঞ্জ দেখতে দেখতে! 
চাইলে যাবার পথে চক্কর মেরে যেতে পারেন মেয়র সাহেবা'র উদ্যোগে ঢাকার হাতির ঝিলের মত ডি&ডি প্রকল্পটি। 

এখানেই শেষ না!

 পরদিন সকালে উঠবেন আস্তে-ধীরে। 
নাস্তা পানি খেয়ে ঐতিহ্যবাহী পোষাক পরে রওনা দিবেন সোনারগাঁওয়ের উদ্দেশ্যে। 
ছেলে হলে কাবলি পায়জামা আর ঢিলেঢালা পাঞ্জাবি পরবেন।


মেয়ে হলে লাল-পেড়ে সাদা শাড়ি।
সেটার সাথে রঙ মিলিয়ে রিনিঝিনি কাঁচের চুড়ি।
একটা এস্থেটিক কাঠের মালাও পরতে পারেন!
কানে পিতলের ঝুমকো, কপালে লাল টিপ অত্যাবশকীয়।

 ১০/১১টা করে রওনা দিবেন চিটাগং রোড থেকে বাসে উঠে সোনারগাঁও।

বাস থেকে নেমে রিক্সা বা অটোরিকশায় চলে যাবেন সোনারগাঁও জাদুঘরে।
 জাদুঘর ঘুরে শেষ মাথায় পাবেন কিছু দোকানপাট যেখানে জামদানী জামাকাপড়, নকশীকাঁথা আর পাবেন ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈজসপত্র।
 বিভিন্নরকম আর্কিওলোজিক্যাল নিদর্শনের পাশাপাশি দেখবেন খাঁটি জামদানী আর ক্লাসি নকশী কাঁথার মেলা!
জাদুঘর ঘুরে চলে যান তার পরের পানাম নগরে।


বলা হয়ে থাকে ঈসা খাঁর সময়ে পানাম ছিল খানদানি ব্যবসায়ীদের বানানো এলাকা। 
অনেক এখনকার হাউজিং সোসাইটির মত! 

একখানা কদবেল ভালো করে কাসুন্দিসহ মাখিয়ে নিয়ে খেতে খেতে, খুব চমৎকার কারুকার্য খচিত সেসব বাড়িঘরের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে চলে যান নগরীর এমাথা থেকে ওমাথা।
অবশ্যই পুরোনো গাম্ভীর্যে কিছু ছবি নিতে ভুলবেন না!

 পানাম নগরী দেখেই অনেকেই চলে আসেন। 
আমি বলবো এখনি না!

পানাম নগরীর শেষ মাথা দিয়ে একটা পায়ে চলা পথ দিয়ে মেইনরোডে বেরিয়ে আসুন। 
একটা অটোরিকশা ভাড়া করে চলে যান লোকনাথের মন্দিরে।
দেখবেন বিকালের সূর্যাস্তের আবহে বা সন্ধ্যার চিত্রে মন্দিরটি!


ঘুরে ফেরার পথে কেজি খানেক সন্দেশ নেবেন অবশ্যই। 
খুবই সুস্বাদু এই সন্দেশ। 
তারপর আস্তে-ধীরে রওনা দিয়ে নারায়ণগঞ্জ চলে আসুন।

এরপর যদি নদী'র মত কোনো ছোটো বোন থাকে রাতে পেট ভরে নদীর মাছ, বেগুন ভাজা আর মুগের ডাল দিয়ে গরম গরম ভাত খেয়ে নারায়ণগঞ্জ যাত্রার ইতি টানতে পারেন!


Popular posts from this blog

অভয়নগর ভয়: টেরাকোটার খোঁজে

টেরাকোটা, মন্দির, যুগের-কালের সাক্ষী রেখে সুউচ্চ দাঁড়িয়ে থাকা ইমারত দর্শন আমার ভীষণ আগ্রহের। মনে পড়ে, দিনাজপুরের দিকে যেবার গেলাম, কান্তজীর মন্দির দেখার জন্য কত কাহিনী। একদিন গেলাম বন্ধ, পরেরদিন গেলাম বন্ধের ঠিক আগে দিয়ে তাই ঢুকতে দিলনা, তারপর অবশেষে তৃতীয় ধাক্কায় সঠিক সময়ের ব্যাপার বুঝে যেতে পড়েছিলাম তাও একদম সন্ধ্যার ঠিক আগে মুহূর্তে। ভালোভাবে দেখা হয়নি। ১১-শিব-মন্দির দেখতে যেয়েও আমাদের সেরকমই ঝক্কি হলো। এমন না যে এটায় কান্তজী'র মন্দিরের মতো সাঁঝের বেলায় মন্দিরের দরজা বন্ধ করে দেবার ব্যাপার ছিল, তবে ঘোর গহীনে, প্রায় বনের মাঝে অন্ধকারে দেখবার কোনো সুযোগই থাকতোনা। আমার ইচ্ছে ছিল, বিকেল বিকেল পৌঁছে, মন্দিরের মঠে বিকেল আর সন্ধ্যা ঘনানো দেখবো। কিন্তু সেদিন আমাদের ঘোরার শেষ দিন, অথচ বাকি ছিল কত কিছু, সে জন্য দিনের পরিকল্পনাটা একটু ঘটনাবহুল ছিল। খুলনা থেকে বাগেরহাট একদিকে, আর অভয়নগর একদম সোজা উল্টো দিকে, যশোরের রাস্তায়। চুই-ঝালের গরুর গোস্ত দিয়ে পেট টান করবার পর মনে হলো একটা ভাত ঘুম দেই কিন্তু সে সুযোগ নেই। সবাইকে ঠেলেঠুলে নিয়ে আবার বসে চেপে বসলাম অভয়নগরের উদ্দেশ্যে। ওখানে নেমে মন্দিরের...

লোকাল ট্রেনে এক রাত্রি (কিশোরগঞ্জ হাওড় হয়ে অষ্টগ্রাম দিয়ে ব্রাক্ষ্ণণবাড়িয়া)

নিলয় ভাইয়ার কাছে ঢাকার লোকাল ট্রেনের গল্প শুনে বেশ "এডভেঞ্চারাস" মনে হবার দরুণ চড়ার সখ ছিলো।  যদিও সবাই মানা করতো সবসময় যে, লোকাল-ট্রেন খুবই বাজে আর রাতের বেলাতো রীতিমতো নরক! কোনো মহিলার চড়বার যোগ্য না!  কিন্তু একদিন, পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই সেই নরক দেখার সৌ/দূর্ভাগ্য হয়েছিলো একবার। . রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য ভ্রমণ শেষে  পরদিন আমরা যাবো কিশোরগঞ্জ হা ওড় ঘুরতে। কিশোরগঞ্জ হাওড় হয়ে অষ্টগ্রাম দিয়ে ঘুরে পানি পথে কুমিল্লা দি য়ে বেরিয়ে চিটা গং ব্যাক করবো এরকম প্ল্যান ছিলো আমাদের! কিন্তু শেষ দিকে এসে নানান কারণে একটার পর একটা প্ল্যান ভেস্তে যায়।  আর আমরা টুকুর টুকুর করে ভেঙে ভেঙে আসতে থাকি!  এভাবে আমরা কুমিল্লা অব্দি যেতে না পেরে  ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া পর্যন্ত আসতে পারি।  ওখান থেকে আর কোনো না পেয়ে, আমরা যখন লোকাল ট্রেনে উঠি তখন সম্ভবত প্রায় রাত ৮/৯টা! . অন্তত কোনোমতে কুমিল্লা অব্দি যেতে পারলেও হচ্ছে, ওখান থেকে অহরহ চিটাগাংএর গাড়ি পাওয়া যাবে।    চিন্তা একটাই, ট্রেনে অন্তত একটা সিট পেতেই হবে। পুরাটা রাস্তা শিহাব ভাইএর পক্ষে দাঁড়িয়ে যাওয়া সম্ভব না।  [বি...

শ্রীহট্ট দিনলিপিঃ তানিমের গোলাপিনেশা

তানিমকে আমেরিকায় স্কলারশিপের জন্য প্রস্তুতি নিতে দেখতেসি বেশ ক'বছর ধরেই। হুট করেই সেবার যখন সুখবরটা পেলাম যে ওর স্কলারশিপ কনফার্ম, বিশ্বাস হতে চায়নি। ১৫/১৬ তারিখের দিকে শুনি ২২ তারিখে ওর আমেরিকার ফ্লাইট। আমার মাথায় কনগ্রাচুলেশন জানানোর আগে শুরুতেই যেইটা মাথায় কাজ করেছিল তা হলো, "আয়হায়! তানিমের না আমাকে ওর নতুন রেসিপির বিরিয়ানী রান্না করে খাওয়ানোর কথা! একবার আমেরিকা পার হইলেত আর ওকে পাবার সম্ভাবনা প্রায় নাই! সেজন্য ভাবলাম সামনে যে ৩দিন ঈদের ছুটি আছে, তাতে খুব ঝক্কি-ঝামেলার হলেও সিলেট ঢুঁ মেরে আসি। অন্তত বিরিয়ানী খাই না খাই ছেলেটার সাথে একবার দেখা করা উচিৎ। কে জানে আর কখনো দেখা হবে কিনা। তানিমের সাথে কথা হলে জানলাম, কোভিড টেস্টের কারণে সে বাড়ি থেকে বের হতে পারবেনা। বিরিয়ানী রান্নাতো অনেক দূরের কথা। কিন্তু একেতো লকডাউন, অফিসের কাজের প্রচুর চাপ, আমি ৩/৪ দিন না থাকলে যে কেউ ব্যাকাপ দিবে এমন লোক নেই! তারউপর আমার লাইন-ম্যানেজার ছুটিতে তার দেশে যাবে। তার কাজ, দায়িত্ব বুঝে নেয়া সহ আর দৈনন্দিন নিত্যদিনের ঝামেলাতো ছিলোই। সুতরাং কাজের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বেশী। সব মিলিয়ে আমারও ...